তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বাম নেতা ক্ষিতি-কন্যা বসুন্ধরা

টিএলজে করেসপনডেন্ট- গত শুক্রবার আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে শাসকদল।

সেই প্রার্থী তালিকায় একের পর এক চমক। কলকাতা পুরসভার ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামী।

তিনি তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র সম্পাদকীয় বিভাগে লেখেন। খাতায় কলমে ২০১৭ সাল থেকেই তিনি তৃণমূল কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

  1. বার বসুন্ধরা পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে হাজির

২০১৯ সালের ২৪ শে নভেম্বর প্রয়াত হন  বাম মন্ত্রী তথা আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামী। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চে শোনা যায় বসুন্ধরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

বসুন্ধরা একজন মনস্তত্ত্ববিদ। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর কাজ ভালো লাগার কারণেই শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে যুবসমাজের মুখ হিসাবে তুলে এনেছেন।

প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে বাম নেতা অনিল বিশ্বাসের মেয়ে অজন্তা বিশ্বাস ‘জাগো বাংলা’র হয় কলম ধরে বাম শিবিরের রোষের মুখে পড়েন।

‘বঙ্গ রাজনীতিতে নারী শক্তি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রাক স্বাধীনতার পর থেকে সাম্প্রতিককালের রাজনীতিতে মহিলা রাজনীতিকদের অবস্থান প্রসঙ্গে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন অজন্তা।

সেখানেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলে আনেন। এরপরই কড়া সমালোচনা থেকে শুরু করে কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যন্ত ধরানো হয় অজন্তাকে।

সেই পরিস্থিতিতে অজন্তার সমর্থনে তাঁর পাশে দাঁড়ান বসুন্ধরা এবং জাগো বাংলায় কলম ধরেন।

সেই পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা লিখেছিলেন, “এটা বাস্তব যে বঙ্গ রাজনীতিতে নারী শক্তি নিয়ে লেখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া সম্পূর্ণ হতে পারেনা।

অজন্তা এটা লিখে কোন ভুল করেননি। জাগো বাংলায় সম্পাদকীয়  বিভাগও অজন্তার লেখায় বামপন্থীদের অংশকে অটুট রেখে উদারতার পরিচয় দিয়েছেন।”

সেই সঙ্গে বসুন্ধরা এও বলেন, “এ নিয়ে অজন্তাকে সিপিএমের আক্রমণ দেখে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি ওরা স্টালিনিস্ট দল।

ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। ওরা কন্ঠরোধ করে।…… সিপিএমের এইসব আচরণ বহু প্রতিভাকে বামফ্রন্টের স্রোত থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে।

ওরা সবেতে চক্রান্তের গন্ধ দেখে। বদনাম করে। তারপরে শাস্তির পথে যায়। এই খেলা মানুষ ধরে ফেলেছেন।

প্রকৃত বাম মনোভাবাপন্ন মানুষ কোনও অবস্থায় এটা মানবেন না। এই করতে করতে বামফ্রন্টকে সব দিক থেকে শূন্যে নামিয়েছে সিপিএম। তাতেও শিক্ষা হয়নি।

অনুশাসনের নামে কুপমণ্ডুকের রাজনীতি করতে ব্যস্ত। চিন্তাভাবনাকে জনমুখী সময়োপযোগী করার কোনও চেষ্টা সিপিএমের নেই।”

ব্রাত্য বসুর সঙ্গে ত্রিপুরা পৌঁছেছিলেন বসুন্ধরা। ত্রিপুরায় পুর নির্বাচনের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হাজির হয়েছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

ত্রিপুরায় বিজেপি বিরোধিতায় বাম কর্মীদের দলে টানতে উদ্যোগী হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও ব্রাত্য বসুর বক্তব্য ছিল, “ত্রিপুরার বামেদের সাথে বাংলার বামেদের একটা পার্থক্য আছে।”

বসুন্ধরা ত্রিপুরায় গিয়ে দেখা করেছিলেন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে। বিশেষত মহিলাদের সঙ্গে তিনি কথা বলে ত্রিপুরার আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন।

সেই সঙ্গে জানার চেষ্টা করেছেন সেখানকার মানুষের সুবিধা অসুবিধা।
দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, “বাবা মন্ত্রী ছিল বলে আলাদা কোনো গরিমা বসুন্ধরার নেই।

ও। একেবারে মাটিতে থেকেই বাস্তব অবস্থা বোঝার কাজ করে।”

Also read –Mamata banerjee :-  hands tied cant provide relief in fuel price