বিজেপি নেতার তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা চলছে

হাওড়া জেলা সভাপতি তথা বিজেপি নেতা সুরজিৎ সাহাকে দলবিরোধী মন্তব্য করার জন্য বুধবার বহিষ্কার করা হয়েছে।

আর তারপরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে সুরজিত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, এমনটাই জানা গিয়েছে।

এই খবরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে সুরজিত বাবুর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা।

যদিও বহিষ্কারের পরও সুরজিত বাবুর বক্তব্য ছিল, তিনি বিজেপিতেই থাকবেন।

২৮ বছর ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সুরজিত বাবু। আরএসএস থেকে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

২০০২ সালে হাওড়ার যুব সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন তিনি।

এরপর ২০১৮ সালে জেলা সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন সুরজিত বাবু। দ্বিতীয়বারের জন্য তিনি জেলা সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯শে ডিসেম্বর হাওড়ায় পুরভোট উপলক্ষ্যে হাওড়ার ৫০টি ওয়ার্ডে ভোট পরিচালনার উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করে বিজেপি।

সেই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা রথীন চক্রবর্তীকে।

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের অধীনে কাজ করতে রাজি হননি সুরজিত বাবু।

তাঁর দাবী, “দলের নিয়ম অনুযায়ী জেলার যেকোনও কমিটির মাথায় থাকেন জেলা সভাপতি।

এক্ষেত্রে আমাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এভাবে দলে তৃণমূলীকরণ মানব না। নবগঠিত নির্বাচন কমিটিকেও মানব না।”

এই ঘটনার পর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আর তারপর বৃহস্পতিবার ফের বিস্ফোরক মন্তব্য সুরজিত বাবুর, “রাজ্যের এক শীর্ষ নেতা বলায় সাংবাদিকদের সামনে মুখ খুলেছিলাম।

সেই নেতারাই আমাকে বলির পাঁঠা করল।” অন্যদিকে এর মাঝেই উঠছে নতুন গুঞ্জন।

তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন সুরজিত সাহা। ঘটনা প্রসঙ্গে সুরজিত বাবু জানিয়েছেন, “আইপ্যাকের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

তৃণমূলের তরফেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিইনি।”

তাঁর এই মন্তব্যই উসকে দিয়েছে জল্পনার আগুন।

অন্যদিকে, ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বিজেপির দলীয় সংঘাত।

একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে এবার সুর চড়িয়েছেন বিজেপির ‘আদি’ কর্মী সমর্থকরা।

আর এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীকে অপসারণের দাবী।

বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির।

এরপর শুরু হয়েছে ফের দলবদলের পালা। যারা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছিলেন, তারাই ফের ফিরতে শুরু করেছেন তৃণমূলে।

অন্যদিকে দলবদলু নেতাদের একাংশ বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে।

আর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির দলীয় শীর্ষ নেতাদের তুলোধনা করছেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিতাভ বাবুকে ওই নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু দলবিরোধী কাজের প্রেক্ষিতে শো কজ পর্যন্ত করা হয়নি ওই অভিযুক্ত নেতাদের।

এর বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়াছেন বিজেপি নেতাদের একাংশ।

তাঁদের অভিযোগ, ‘লাগাতার দলের বিরুদ্ধে কথা বলেও ওই নেতাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল না।

অথচ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই দল থেকে বহিষ্কার করা হল হাওড়া জেলার সভাপতি সুরজিত সাহাকে।’

উল্লেখ্য, অমিতাভ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা।

তাঁর দাবী, তাঁকে দলের একটি মহলের হাতের পুতুল করে রাখা হয়েছে।

রাজ্যের এক শীর্ষ নেতার দাবী, অমিতাভ বাবুকে ওই পদ থেকে সরিয়ে ইতিমধ্যেই কেশব ভবনে পাঠানো হয়েছে।

পুরভোটের আগে অমিতাভ বাবুকে সরানো না হলেও, তাঁর কাজের পরিধি কমিয়ে সহকারী হিসেবে কাউকে নিয়োগ করা হতে পারে।

Also read – জিতু বা সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎ