স্কুল খোলা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিল স্কুল খোলা নিয়ে। রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল খোলার ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। সাংবাদিক বৈঠক করে সেই কথাই কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। যদিও তিনি জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকার স্কুল খোলার পক্ষেই রয়েছেন।”

প্রায় দু’বছর ধরে বন্ধ রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। মাঝে কিছু সময়ের জন্য খোলা হলেও তা বেশি দিনের জন্য নয়। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়াতে ফের স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য। টানা চলছে অনলাইন পড়াশোনা। কিন্তু সেক্ষেত্রে যথাযথ শিক্ষা পাচ্ছেনা পড়ুয়ারা, এমনটাই অভিযোগ অভিভাবকদের একটি বড় অংশের। আর তাই নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিভাবকরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামছেন। সোমবার দুপুরে স্কুল খোলার দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান এসএফআই কর্মীরা। আর তারপরই রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ‘পাড়ায় শিক্ষালয় প্রকল্প’ ঘোষণা করার সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাজ্য সরকারও স্কুল খোলার পক্ষে। তবে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় রাজ্য সরকার। যাতে স্কুল খোলার কয়েকদিন পরেই আবার বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়। করোনা পরিস্থিতি দেখে স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

সেই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছেন। কবে স্কুল খোলা হবে সেই কথা মুখ্যমন্ত্রী জানাবেন। সব স্কুল ধাপে ধাপে খুলতে চাই।” তবে ঠিক কবে থেকে স্কুল খোলা হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।

তবে তিনি এও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীও চাইছেন বাচ্চাদের ক্ষতি না, সংক্রমণ না বাড়িয়ে যাতে স্কুল খুলে ফের বন্ধ করতে না হয়, তার পাকাপোক্ত প্রতিষেধক এবং প্রতিবিধান বের করার পর মুখ্যমন্ত্রী জানাবেন কবে থেকে স্কুল খুলব।”

ব্রাত্য বসু আরও জানান, “স্কুল বন্ধ থাকলেও যে সময়ে স্কুল চলে, সেই সময়েই পাড়ায় শিক্ষালয় চলবে৷” শিক্ষা দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উন্মুক্ত স্থানে এই সব অধিবেশনে পড়ার অভ্যাস করানো, সংখ্যার ধারণা ও প্রাথমিক স্তরে গণিত চর্চা, সাংস্কৃতিক ও মানসিক বিকাশের বিভিন্ন পাঠক্রম দেওয়া হবে৷’

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভবত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্কুল খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে৷

প্রসঙ্গত, ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্য সরকার পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচি শুরু করতে চলেছেন। এই পাড়ায় শিক্ষালয় নামকরণ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত, শিশুদের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, পড়া ও লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন নাচ গান আবৃত্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আপাতত রাজ্যের ৫০ হাজার ১৫৯ টি প্রাথমিক স্কুলে এবং ১৫ হাজারের বেশি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে এই প্রকল্প চালু হচ্ছে। মোট ২ লাখের বেশি শিক্ষক থাকবেন এই ব্যবস্থায়। এর মাধ্যমে লাখেরও বেশি পড়ুয়া উপকৃত হবে, এমনটাই জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু।

শিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পাড়ায় শিক্ষালয়ের মাধ্যমে শিশুদের পড়া, লেখা এবং সংখ্যা সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে৷ শিক্ষা দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শিশুদের মনোসামাজিক সহায়তা এবং সামাজিক- আবেগজনিত শিক্ষা প্রদান করা হবে৷ শিল্প ও নৈপুণ্যের দক্ষতাও বৃদ্ধি করা হবে৷’ পাশাপাশি আউটডোর এবং ইনডোর ক্রীড়া সংক্রান্ত কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হবে৷
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে পঠনপাঠন শুরু হয়েছিল৷ রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা ছিল, জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ থেকেই স্কুল চালু করার৷ কিন্তু করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সফল হয়নি সেই পরিকল্পনা৷ উল্টে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্কুল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ ফের একবার যাতে সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে, এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী।

রাজ্য সরকারের এই চিন্তাকে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলা শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ। ব্রাত্য বসুর বক্তব্যের পর শিক্ষাবিদ দেবাশিস সরকার জানিয়েছেন, “স্কুল-কলেজ গুলি প্রায় ২২ মাস ধরে বন্ধ। ফলে স্কুল খোলার যে দাবি উঠছে, তা খুব স্বাভাবিক। সরকারও করোনা সংক্রমনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নিশ্চয়ই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং ধাপে ধাপে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিকে যাবে, এটাই প্রত্যাশা রাখি।”

Also read: ফের গোয়া সফরে অভিষেক

https://thelocaljournalist.com/